দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল, শোডাউন ও স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এর মদ্ধে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন-এর জানাজাকে কেন্দ্র করে বিশাল জমায়েত এবং “জয় বাংলা” স্লোগান ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, জানাজায় অংশ নেওয়া অনেকেই প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন। কেউ কেউ এটিকে “শক্তি প্রদর্শন” হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন—এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতার ফল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কোনো সংগঠন নিষিদ্ধ হলেও তাদের সমর্থক বা কর্মীরা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় না। পরিস্থিতি অনুকূলে মনে হলেই তারা আবার মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। বিশেষ করে বড় কোনো নেতার মৃত্যু, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা আবেগঘন ইস্যুকে কেন্দ্র করে শক্তি জানান দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন—যদি সত্যিই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হয়, তাহলে প্রকাশ্যে মিছিল, স্লোগান ও সমাবেশ কীভাবে হচ্ছে? প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখছেন—“এটা কি প্রত্যাবর্তনের সংকেত?”
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন কিছু কর্মসূচি মানেই সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নয়। মাঠের উপস্থিতি আর সাংগঠনিক পুনর্বাসন এক বিষয় নয়। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে সরকারের অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনমতের ওপর।
এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক, ইউটিউবে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন “রাজনীতির নতুন খেদলা শুরু”, আবার কেউ মনে করছেন “নিষিদ্ধ রাজনীতির আড়ালে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে”। তাহলে প্রশ্ন একটাই—নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো কি সত্যিই ফিরছে, নাকি এটা শুধুই সাময়িক শক্তি প্রদর্শন?
উত্তর এখনই স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে সরকারের অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আদালতের সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সবচেয়ে বড় কথা—জনমতের ওপর।
এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক, ইউটিউব ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা যেন থামছেই না। কেউ বলছেন “রাজনীতির নতুন খেলা শুরু”, আবার কেউ মনে করছেন “নিষিদ্ধ রাজনীতির আড়ালে তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ”। এখন দেখার বিষয়—এটি ক্ষণিকের আলোড়ন, নাকি দেশের রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের পূর্বাভাস।