বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্প।
একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয়ের চাপে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন। অন্যদিকে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, কারখানায় ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ বাড়ছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিক ও বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন—বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৫২৯টি পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কর্মস্থল ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতের একটি বড় অংশ একদিনেই অচলাবস্থার মুখে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি এবং দেশের রপ্তানি অর্থনীতির স্বার্থ, দুটিকে কীভাবে একসঙ্গে রক্ষা করবে সরকার ও শিল্পমালিকেরা?

৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে কেন উত্তাল পোশাকশিল্প?
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি। বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে একজন শ্রমিকের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে এই অর্থ দিয়ে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে বাসাভাড়া—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং দৈনন্দিন অন্যান্য খরচ। ফলে মাস শেষে বেতন হাতে পাওয়ার পরও অনেক শ্রমিকের পক্ষে সংসারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে এক পোশাকশ্রমিক জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় আয়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে গেছে। বাড়িভাড়া পরিশোধের পর খাবার, সন্তানদের শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য খুব সামান্য অর্থ অবশিষ্ট থাকে।
শ্রমিকদের বক্তব্য, শুধু বেতন বাড়ালেই হবে না; কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ, চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহাল এবং কালোতালিকাভুক্ত করার মতো অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে মালিকপক্ষ বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এক ধাপে ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা তাদের জন্য কঠিন। উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে কম মূল্য পাওয়ার কারণে অনেক কারখানা এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে।