ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এও এর ব্যতিক্রম নয়। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিল সবচেয়ে সফল দল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরা সবসময়ই আক্রমণাত্মক ফুটবল ও তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াডের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করেছে। ফলে দুই দলের ম্যাচ শুধু সমর্থকদের জন্য নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বের জন্যই বড় আকর্ষণ।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন
ব্রাজিলের লক্ষ্য বহু প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা, অর্থাৎ “হেক্সা” অর্জন। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করে নকআউট পর্বে যাওয়ার পরিকল্পনা সেলেসাওদের।
আর্জেন্টিনার লক্ষ্য শিরোপা ধরে রাখা
২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা এবার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমেছে। আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে চায় আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপ ২০২৬ কেন বিশেষ?
২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ৪৮টি দেশ, যেখানে আগে অংশ নিত ৩২টি দল। দলগুলোকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল নকআউট পর্বে উঠবে। ফলে বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ।
লাইভ বিশ্বকাপের উত্তেজনা
বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ এখন কোটি কোটি দর্শক সরাসরি উপভোগ করছেন। মাঠের লড়াই, সমর্থকদের উন্মাদনা, নতুন তারকাদের আবির্ভাব এবং ফুটবল পরাশক্তিদের আধিপত্য—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ এখন এক বৈশ্বিক উৎসব।ইতোমধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচগুলোতে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচ এখন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নতুন ফরম্যাটে নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ আগের তুলনায় আরও বেশি।
কোথায় লাইভ দেখবেন?
বাংলাদেশের দর্শকরা টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন। বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ লাইভ দেখার কয়েকটি জনপ্রিয় উপায়গুলো নিচে দেয়া হলো-
১. BTV (বাংলাদেশ টেলিভিশন)
২. T Sports
৩. Somoy TV (নির্বাচিত ম্যাচ)
৪. Toffee অ্যাপে লাইভ স্ট্রিমিং পাওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশের মানুষ কেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে?
বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও ফুটবলের প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসা অসাধারণ। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসার কারণ: ব্রাজিলের ফুটবল মানেই নান্দনিকতা, আক্রমণাত্মক খেলা ও শৈল্পিক দক্ষতা। অতীতে Pelé, Ronaldo Nazário, Ronaldinho এবং Neymar-এর মতো তারকারা বাংলাদেশি দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। ব্রাজিল সমর্থনের প্রধান কারণগুলো হলো : পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল, সুন্দর ও আক্রমণাত্মক ফুটবল, কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের ঐতিহ্য, হলুদ জার্সির প্রতি আলাদা আকর্ষণ
আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসার কারণ: বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তার বড় কারণ Diego Maradona এবং Lionel Messi। বিশেষ করে মেসির অসাধারণ ক্যারিয়ার নতুন প্রজন্মের মধ্যে আর্জেন্টিনার সমর্থক সংখ্যা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। আর্জেন্টিনা সমর্থনের কারণগুলো হলো-, মারাদোনার ঐতিহাসিক সাফল্য, মেসির জাদুকরী ফুটবল, ২০২২ বিশ্বকাপ জয়, দলগত ও লড়াকু মানসিকতা
১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় লিগের সম্প্রচার খুব সীমিত ছিল। তখন বিশ্বকাপই ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবল দেখার প্রধান সুযোগ। সেই সময় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার খেলা দেখে অনেকেই এই দুই দলের ভক্ত হয়ে যান। বাংলাদেশে অনেক পরিবারে বাবা ব্রাজিল সমর্থক হলে ছেলে-মেয়েরাও ব্রাজিল সমর্থক হয়। একইভাবে আর্জেন্টিনা সমর্থনও অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিকভাবে প্রজন্মান্তরে চলে এসেছে। ফলে বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের কাছে এটি এক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশ্বকাপ এলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় বিশাল পতাকা, জার্সি, ব্যানার ও নানা আয়োজন। ফলে এই দুই দলের ম্যাচ মানেই বাংলাদেশে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং স্পেন এবারের শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে বিশ্বকাপে চমকের অভাব কখনোই থাকে না। তাই কোনো দলকেই হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।