বাংলাদেশের সঙ্গে অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ইস্যুটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বেশ আলোচিত ও বিতর্কিত একটি বিষয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতন-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হয়।
তখন কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের পাশাপাশি দলটির পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের অনেকের কথায়ও ছিল উসকানি। তবে এই পারদের উচ্চতা একটু একটু করে বাড়তে থাকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে মমতার জায়গায় বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর এগিয়ে থাকার সময় থেকেই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সরকারকে হটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গড়েছে হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শুভেন্দু। এরপর সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন বির্তক, বাড়ছে উদ্বেগ।
সরকার গড়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই শুভেন্দু সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফকে জমি দেয়ার অনুমোদন দিয়েছেন। এ বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাঁটাতার নির্মাণের জন্য ঝুলে থাকা জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়। শুভেন্দু বলেন, এটা না করা গেলে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা পরিবর্তন ও সুরক্ষা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের খবরে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন আর ডর (ভয়) দেখানোর মতো জায়গা নেই।
ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতার দেয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব বিষয়। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে সীমান্তের প্রায় ১৪৯ কিলোমিটার এলাকায় জমি অধিগ্রহণ ঝুলে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ৫৬৯ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও কাঁটাতারবিহীন। এর মধ্যে ১১২.৭৮০ কিমি এলাকায় কাঁটাতার দেয়া সম্ভব নয় এবং ৪৫৬.২২৪ কিমি এলাকায় কাঁটাতার দেয়া সম্ভব।
অন্যদিকে, ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৪৫৬ কিমি এলাকায় কাঁটাতার দেয়া সম্ভব, তার মধ্যে মাত্র ৭৭ দশমিক ৯৩৫ কিমি জমি নির্মাণ সংস্থাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৩৭৮ দশমিক ২৮৯ কিমি এলাকার মধ্যে ১৪৮ দশমিক ৯৭১ কিমি জমির জন্য রাজ্য সরকার এখনও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াই শুরু করেনি। বাকি ২২৯ দশমিক ৩১৮ কিমি জমি অধিগ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে আটকে রয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও পুরোনো অংশগুলো আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নাকি এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৌশলগত নানা হিসাব।