দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয় বর্তমানে শুধু চলচ্চিত্র নয়, রাজনীতির অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। বহু বছর ধরে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেতা এখন নতুন পরিচয়ে হাজির—একজন উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা হিসেবে।
তার জনপ্রিয়তা, প্রভাব এবং ভক্তদের বিশাল সমর্থন তাকে রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৭টিতে জয় পেয়েছে তাঁর দল টিভিকে। এখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন।
একক দল হিসেবে টিভিকে এই সংখ্যায় পৌঁছাতে না পারলেও সবচেয়ে বেশি আসন তাদেরই হয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টিভিকে সরকার গঠন করতে না পারলেও অন্য এক বা একাধিক দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ বিজয়ের সামনে থাকছে। শেষ পর্যন্ত সেটা হলে ৪৯ বছরের মধ্যে তামিলনাড়ুতে প্রথম চলচ্চিত্র তারকা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন তিনি।
খালাপতি বিজয়ের পরিচয়
চন্দ্রশেখরন জোসেফ বিজয় (জন্ম ২২ জুন ১৯৭৪) একজন ভারতীয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ, যিনি ২০২৬ সাল থেকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী-মনোনীত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । তিনি তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম দলের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা, যেটি ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারেই একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয় । তামিল সিনেমায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত কর্মজীবনে বিজয় প্রধান অভিনেতা হিসেবে ৬৯টি ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং তিনি ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বাণিজ্যিকভাবে সফল অভিনেতা হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হন এবং তার বেশ কয়েকটি ছবি সর্বোচ্চ আয়কারী তামিল ছবির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। তার পুরস্কার এবং মনোনয়নের তালিকায় উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন।
যেভাবে রাজনীতিতে আসেন খালাপতি বিজয়
একজন অভিনেতা হিসেবে তার জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা দেন, সিনেমা ছেড়ে তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (টিভিকে) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছেন। তার পেছনে কোনো বড় রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছিল না, কোনো রাজনৈতিক পারিবারিক পরিচয় ছিল না, এমনকি বহু বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা ডিএমকে বা এআইএডিএমকের সঙ্গেও কোনো জোট ছিল না। দল গঠনের পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত দুই বছরে টিভিকে যা কিছু করেছে, তার সব চমকপ্রদ না হলেও বাস্তবভিত্তিক ছিল। ২৩৪টি আসন জুড়ে বুথভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিক্রাভান্ডিতে বিশাল জনসমাগমে দলীয় সম্মেলন করা, এবং এমন একটি ইশতেহার তৈরি করা। তার ইশতেহার ছিল অবহেলিত মানুষের জন্য। বিজয়ের লক্ষ্য ছিল নারী, শিক্ষার্থী, নতুন ভোটার ও দিনমজুররা।
থালাপতি বিজয় এর ধর্ম কি
দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয় মূলত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর খ্রিষ্টান ভেল্লালার এবং মা শোভা চন্দ্রশেখর হিন্দু। তিনি খ্রিষ্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন, তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ২০২৫ সালের ৭ মার্চ নিজের রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK) এর আয়োজিত ইফতার পার্টিতে টুপি পরে ইফতার ও নামাজে অংশগ্রহণ করেন, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ায়।
খালাপতি বিজয়ের মাসিক আয় বা সম্পদের ধারণা
হলফনামা অনুযায়ী, বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬০৩ কোটি রুপি। বিজয়ের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মধ্যে বড় অংশই অস্থাবর—প্রায় ৪০৪ দশমিক ৫৮ কোটি রুপি। বাকি ১৯৮ দশমিক ৬২ কোটি রুপি স্থাবর সম্পদ। তাঁর সম্পদের তালিকায় রয়েছে কোদাইকানালে কৃষিজমি আর চেন্নাইসহ বিভিন্ন জায়গায় বাণিজ্যিক ও আবাসিক সম্পত্তি। নগদ অর্থ হিসেবে হাতে রয়েছে প্রায় দুই লাখ রুপি। পাশাপাশি ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে জমা রয়েছে ২১৩ কোটির বেশি। সোনা-রুপার অলংকারও আছে—মোট ৮৮৩ গ্রাম, যার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ রুপি। বিলাসবহুল গাড়ির তালিকাও কম দীর্ঘ নয়। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে বিএমডব্লিউ, টয়োটার কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিজয়ের মোট আয় ছিল ১৮৪ দশমিক ৫৩ কোটি রুপি। তাঁর আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্বনিযুক্ত কাজ, সুদের আয় এবং সম্পত্তি থেকে ভাড়া।
খালাপতি বিজয়ের স্ত্রী সম্পর্কে তথ্য
বিজয়ের স্ত্রী সংগীতাও আলাদাভাবে নিজের সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ দশমিক ৭৬ কোটি রুপি। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদ ১৫ দশমিক ৫১ কোটি এবং স্থাবর সম্পদ ২৫ লাখ রুপির।
খালাপতি বিজয়ের পড়াশোনা
শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রসঙ্গে বিজয় উল্লেখ করেছেন, ১৯৮৯ ও ১৯৯১ সালে যথাক্রমে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণি পাস করেন। পরে বিএসসি পড়তে ভর্তি হলেও সেই পড়াশোনা শেষ করেননি।
