দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনার পর অবশেষে নতুন মোড় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির প্রেক্ষাপটে এবার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে ১০ দফা শর্ত দিয়েছে ইরান। ইরানের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, যদি তাদের শর্ত পূরণ করা হয়, তবে তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ইরান চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করুক যে ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন চালানো হবে না। দ্বিতীয় দফায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই রাখতে হবে। তৃতীয় দফায় ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণের অধিকার মেনে নিতে হবে।
এছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম দফায় ইরানের ওপর আরোপিত সব প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি করা হয়েছে। ষষ্ঠ দফায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইরানবিরোধী সব প্রস্তাব বাতিল করতে হবে। সপ্তম দফায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গভর্নর বোর্ডের ইরানবিরোধী সব প্রস্তাবও বাতিল করার দাবি তোলা হয়েছে।
যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে অষ্টম দফায় উল্লেখ রয়েছে। নবম দফায় এই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব যুদ্ধ বাহিনী সরিয়ে নেয়ার কথা বলেছে ইরান।
এছাড়া দশম ও শেষ দফায় লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করতে হবে। এ প্রস্তাবগুলোতে ইরান কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। কারণ এই ১০ দফা শর্ত শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।