মঙ্গলবার রাতটা পৃথিবীবাসীর কেটেছে অস্বাভাবিক ভয়াবহ এক নিস্তব্ধতায়। টেলিভিশনের পর্দা, মোবাইল স্ক্রিন কিংবা বিভিন্ন কোনো সংবাদ মাধ্যেম —সবখানেই একটাই খবর—যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। মানুষের মনে যে দুশ্চিন্তা ভর করছিল তা হল ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরমানু হামলার শঙ্কা। আর এমন শঙ্কার শুরু মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া একটি পোস্ট ঘিরে।
সেই পোস্টে তেহরান সমঝোতায় না এলে এক রাতেই পুরো সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দেন ট্রাম্প। তার এমন হুমকিতে পরমানু হামলার শঙ্কা নিমজ্জিত হয় গোটা বিশ্ব। সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটে যুদ্ধ বিরতির জন্য ইরানকে বেঁধে দেয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের আগে। পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া ১০ দফার একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলা স্থগিত রাখবে। এ সময় ইরানের প্রস্তাবকে তিনি আলোচনার জন্য ‘কাজ চলার মতো ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর নিজেদের প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ট্রাম্পের বার্তার কিছুক্ষণ পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ বন্ধ করা হয়, তবে তাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও প্রতিরোধমূলক অভিযান বন্ধ করবে।
একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরান। আব্বাস আরাগচী বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করতে হবে এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।
অন্যদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল পৃথক বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছে, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলে এই যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোও হতে পারে। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান।
এ যুদ্ধবিরতির ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দল কঠিন দরকষাকষির সুযোগ পেয়েছেন, যা এখন একটি কূটনৈতিক সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ প্রশস্ত করেছে। তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি মেনে ইসরায়েল চলবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিশেষজ্ঞরা।