‘ডোন্ট বম্ব—টক! এন্ড দ্য এন্ডলেস ওয়ার্স!’—এ স্লোগানে মুখর তেল আবিবের রাজপথ। ইরানের পালটা হামলার প্রভাব এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, ইসরায়েলের ভেতরেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে বাড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক, অন্যদিকে রাস্তায় নামছে সাধারণ মানুষ। যুদ্ধবিরোধী স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠছে তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহর।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছেন ইসরায়েলের নাগরিকরা। রাজধানী তেল আবিবের রাজপথে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে যুদ্ধবিরোধী স্লোগান দেন এবং সরকারের সমালোচনা করেন। বড় ধরনের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করেই কর্মসূচি পালন করছে তারা।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। বাড়ছে জ্বালানি, খাদ্য, পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কমছে আয়, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক ইসরায়েলি দেশ ছাড়ছেন।
এছাড়াও দেশটিতে নেতানিয়াহু সরকারের ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক বিক্ষোভকারী মনে করছেন, নিজের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতেই এই যুদ্ধকে ব্যবহার করছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি মামলায় বিচারাধীন রয়েছেন নেতানিয়াহু। এ মামলায় তিনি রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আইজ্যাক হারজগের ওপর চাপ প্রয়োগের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিক্ষোভের মধ্যেও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন নেতানিয়াহু। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তেহরানের ‘সন্ত্রাসী শাসন’ লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্র ও ইস্পাত উৎপাদন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যুদ্ধের কারণ বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং এর লক্ষ্য বা সময়সীমা স্পষ্ট নয়।