মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে এক চরম উত্তেজনার শিখরে অবস্থান করছে। একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলা এবং আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়েই যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধের দামামা আর কেবল গুঞ্জন নয়, বরং এক রূঢ় বাস্তবে পরিণত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ ইসরায়েলের মধ্যস্ততায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন ও ভয়াবহ মোড় নেয়। এদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করে। পরবর্তী পেন্টাগন পরবর্তীতে এই মিশনের নাম দেয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। যার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক স্বপ্ন ও ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়া।
জবাবে ইরান এখন অল-আউট যুদ্ধে নেমেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিকভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরানের প্রতিশোধমূলক আঘাতের মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, তারপর থেকে প্রায় ৭০ লাখ ইরানি দেশটির সামরিক বাহিনীতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন।
এ কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, একটি ‘শক্তিশালী জাতীয় প্রচারণা’ লাখো ইরানিকে দেশ রক্ষায় অস্ত্র তুলে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
এই বিশাল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। ইরানের আধাসামরিক বাহিনী আইআরজিসি এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী ইতোমধ্যে এসব নিবন্ধিত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইরানের জন্য একটি বড় কৌশলগত শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও টিকে আছে, তাই তারা দীর্ঘ যুদ্ধ চালাতে মানসিকভাবে প্রস্তুত। আর ইরান যদি তার মিত্রদের সক্রিয় করে তোলে, তাহলে সংঘাত দ্রুতই আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।
শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধান না হলে এই ‘ইঁদুর-বেড়াল’ দৌড় এক মহাপ্রলয়ে রূপ নিতে পারে। তবে শঙ্কার বিষয় এই সংঘাত বিস্তৃত হলে এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।