ইরান যুদ্ধের সময় যত গড়াচ্ছে ততই ভারী হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ। পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি যেন এক আগ্নেয়গিরির মোহনায় দাঁড়িয়ে। নতুন করে আরো জটিল মোড় নিতে যাচ্ছে চলমান এ সংঘাত ।
কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ইরানের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে এবং এটি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেয়ার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই পদক্ষেপ নিলে ইরানের হামলার শিকার আমিরাত প্রথম পারস্য উপসাগরীয় দেশ হিসেবে যুদ্ধে জড়িত হবে।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে কেবল সামরিক প্রস্তুতিই নয়, প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি ব্যবহারের বৈধতা পেতে দেশটি এখন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘সবুজ সংকেত’ বা অনুমোদনের অপেক্ষা করছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার অনুমোদন পেতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব উত্থাপনের দিকে এগোচ্ছে আমিরাত।
হরমুজ প্রণালী সচল রাখা এবং ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। কূটনৈতিক পর্যায়ে আমিরাত ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যাতে একটি জোট গঠন করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা যায়।
হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়ে বর্তমানে একটি ব্যাপক বৈশ্বিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। আমিরাতের এই কৌশলী অবস্থান মূলত যুদ্ধের জন্য তাদের প্রস্তুতিরই একটি পরোক্ষ ইঙ্গিত বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়া ও চীন এই ধরনের প্রস্তাবে বাধা দিতে পারে। তারপরও প্রস্তাব পাস না হলেও আমিরাত সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রের মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন সহায়ক সামরিক কার্যক্রম থাকতে পারে
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর প্রথমদিন থেকেই আমিরাতে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও সামহা এবং কাতারের রাজধানী দোহায় বড় বড় বিস্ফোরণ ঘটছে।
এছাড়া সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’ইরানের ড্রোন হামলার পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাস তানুরা তেল শোধনাগারের কার্যক্রম, সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।