মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কি এবার বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে? ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিস্ফোরক দাবি কাঁপিয়ে দিয়েছে বিশ্ব রাজনীতিকে। খবর রটেছে, মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও যুদ্ধজাহাজে নিখুঁত হামলা চালাতে ইরানকে গোপন ‘গোয়েন্দা তথ্য’ দিয়ে সাহায্য করছে রাশিয়া।
এই প্রথম কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশ সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে আমেরিকার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল। কিন্তু কেন পুতিন প্রশাসন ইরানকে এই তথ্য দিচ্ছে? আর এর ফলে মার্কিন বাহিনীর কতটা ক্ষতি হচ্ছে?
গত শনিবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহিনীর অবস্থান ইরানকে জানিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া।
আরো পড়ুন: খামেনির জীবন, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব যেমন ছিল
বিশ্লেষক দারা ম্যাসিকট জানিয়েছেন, ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইট সক্ষমতা সীমিত হলেও রাশিয়ার উন্নত গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় তারা এখন অবিশ্বাস্য নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে।
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ৬ সেনার মৃত্যু কিংবা রিয়াদে সিআইএ স্টেশনে আঘাত—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের পেছনে বড় কোনো শক্তির হাত আছে। ইরানের ড্রোনগুলো এখন সরাসরি মার্কিন রাডার এবং কমান্ড সেন্টারগুলোকে টার্গেট করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের তুলনায় ইরানের বর্তমান হামলার মান অনেক বেশি উন্নত এবং প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী।
কিন্তু রাশিয়া কেন এমনটা করছে? এর পেছনে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক চাল। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়বে, যা রাশিয়ার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
দ্বিতীয়ত, আমেরিকা যদি এখানে বেশি জড়িয়ে পড়ে, তবে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মনোযোগ সরে যাবে।
ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে কিয়েভকে রাশিয়ার অবস্থান জানিয়ে সাহায্য করছে, ক্রেমলিন এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে সাহায্য করে সেই প্রতিশোধই নিচ্ছে।
আরো পড়ুন: আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যেভাবে নিহত হলেন
একদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করছে ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে পেন্টাগনের ভেতরে দুশ্চিন্তা বাড়ছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
চীন এই সংঘাতে এখনও সরাসরি না জড়ালেও, রাশিয়া-ইরান অক্ষ শক্তি এখন আমেরিকার মাথাব্যথার মূল কারণ। ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়া এখন মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে।
একদিকে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য, অন্যদিকে ইরানের আত্মঘাতী ড্রোন—এই দুইয়ের চাপে মার্কিন বাহিনী কতদিন টিকে থাকতে পারবে? রাশিয়া কি আসলেই আমেরিকার পতন ত্বরান্বিত করছে?