তেহরানের আকাশে তখনো ভোরের আলো ঠিকমতো ফোটেনি, এর মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে এক সংবাদ—ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আর নেই। ৮৬ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাসে যুক্ত হলো এক রক্তাক্ত অধ্যায়।
রোববার সকালে একের পর এক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করে সেই খবর। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি–এর কণ্ঠে শোনা যায় শোকবার্তা—“আমাদের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ হয়েছেন।” শব্দগুলো যেন শুধু ঘোষণা নয়, বরং একটি যুগের সমাপ্তির প্রতিধ্বনি। ইরান জুড়ে ঘোষণা করা হয় ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার ভোরে। খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। অভিযোগ ওঠে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র–এর যৌথ সামরিক অভিযানের। রাত গভীর হতেই প্রথম মুখ খুলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কিছুক্ষণ পর একই সুরে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে তেহরান তখনো নীরব। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত রোববার সকালে ইরান স্বীকার করে নেয় সেই কঠিন সত্য। বার্তাসংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ জানায়—খামেনি নিহত।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের ছায়ায় গড়ে ওঠা এই ক্ষমতার কাঠামোতে খামেনি ছিলেন সর্বেসর্বা। সেই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে দায়িত্ব নেন খামেনি—এবং তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের রাজনীতি, সেনাবাহিনী ও বিচারব্যবস্থার অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। আজ সেই অধ্যায় রক্তে লেখা এক সমাপ্তি টানল।
তেহরানের রাস্তায় শোক, মসজিদে প্রার্থনা, আর বিশ্ব রাজনীতিতে প্রশ্ন—খামেনির পর ইরান কোন পথে? ইতিহাস আপাতত নীরব, কিন্তু ঝড় যে আসছে, তা স্পষ্ট।