বজ্রপাতে মৃত্যু ঘিরে তৈরি হচ্ছে নানা রহস্য ও ভয়। সেই সঙ্গে জন্ম নিচ্ছে অলৌকিক সব ব্যাখ্যা। তৈরি হচ্ছে কুসংস্কার, গুজব ও অন্ধবিশ্বাস। বাড়ছে বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির মৃতদেহ চুরি ঘটনা।
পৃথিবীর আদিকাল থেকেই বজ্রপাত ছিল। তবে মৃত্যুর হার ইদানিং বেশি বলে নজরে আসছে। বজ্রপাতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশিরভাগই তৎক্ষণাৎ মারা যায়। আহত হয়ে অল্প কিছু মানুষ বেঁচে যায়। কয়েক বছর যাবৎ বজ্রপাতের কারণে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটছে।
ঝড় ও বৃষ্টির সময় বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনায় যেমন আতঙ্ক বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃতদেহ চুরির আতঙ্ক। বিষয়টি শুনতে অস্বাভাবিক মনে হলেও এর পেছনে কাজ করে কুসংস্কার, গুজব এবং কিছু ক্ষেত্রে অপরাধচক্রের স্বার্থ। অনেকের বিশ্বাস, বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের শরীরে বিশেষ ধরনের “অলৌকিক শক্তি” থেকে যায়।
বজ্রপাতের ফলে মানুষের শরীরে অতিমাত্রায় তড়িৎ প্রবাহ হয় বলেই মানুষ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। বজ্রপাতে মৃতদের দেহ চুম্বকে আবিষ্ট হয় এটা সমাজের প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই না।
কারণ তড়িৎ প্রবাহের ফলে চৌম্বকে পরিণত হয় এমন কোন পদার্থ বা পদার্থের উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট কোন অঙ্গ মানুষের শরীরে নেই যার কারণে বজ্রপাতের ফলে সৃষ্ট তড়িৎ প্রবাহের কারণে মানবদেহ চুম্বকত্বে আবিষ্ট হবে। ইলেকট্রিক শক খেয়ে মানুষের মৃত্যু হলে মৃতদেহ যেমন হয় বজ্রপাতে মৃত মানুষের মৃতদেহ ঠিক একইরকম হয়।
আবার গ্রামাঞ্চলসহ কিছু এলাকায় প্রচলিত আছে নানা অন্ধবিশ্বাস। কোথাও মনে করা হয়, বজ্রপাতে মৃত মানুষের শরীরের অংশ বা ব্যবহৃত জিনিস তাবিজ, ঝাড়ফুঁক বা তথাকথিত কালোজাদুর কাজে ব্যবহার করা যায়।
এ ধরনের কুসংস্কার থেকেও এই মৃতদেহ চুরির ধারণাটি চলে আসছে বলে অনেকেই মনে করছেন। ফলে লাশ চুরি করে তা বিক্রি বা ব্যবহার করার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে।
মৃতদেহ চুরি ভয়ে অনেকেই পরিবারের সদস্যরা রাত জেগে কবর পাহাড়া দেয়। আবার অনেকে নির্দিষ্ট কবরস্থানে মাটি না দিয়ে বাড়ি ভেতরেই কবর দেন। এই সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি ও কুসংস্কার দূর করা। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি।