এটি কোনো সিনেমার কাহিনী নয়, নয় কোনো মানুষের ঘটনা। একদিকে ভয়-আতঙ্ক, অন্যদিকে ধৈর্য্য আর সচেতনতা। এ এক নেকড়ের কাহিনী যে কিনা পালিয়ে যাওয়ার নয় দিন পর ফিরে এলো নিজের চিরচেনা চিড়িয়াখানায়। নয় দিন ধরে আতঙ্কের নাম ছিল সেই নেকড়েটি, যার গল্প এখন মানুষের মুখে মুখে। আতঙ্কে স্থানীয় প্রশাসন স্কুল বন্ধ রাখার পাশাপাশি লোকজনকে বাড়ির বাইরে বেরোতেও নিষেধ করে।
ঘটনার শুরু হয় এক সপ্তাহেরও বেশি আগে, যখন হঠাৎ করেই শহরের একটি চিড়িয়াখানা থেকে নেকড়েটি উধাও হয়ে যায়। বলছি দক্ষিণ কোরিয়ার দেজন শহরের ‘ও-ওয়ার্ল্ড’ চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যাওয়া নুকগু নামের সেই নেকড়েটির কথা। গত ৮ এপ্রিল চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যায় একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নেকড়ে।
সকালে নিয়মিত পরিদর্শনের সময় দেখা যায় খাঁচায় একটি নেকড়ে কম রয়েছে। এর পর সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে, ওই নেকড়েটি খাঁচার নীচের দিকের মাটি খুঁড়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে চম্পট দিয়েছে। ঘটনার পরেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে ওই নেকড়েটিকে শহরেরই রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। যা সাধারণ মানুষের মনে শঙ্কার তৈরি করে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস এই শহরে। নেকড়েকে ধরতে মাঠে নামে শত শত উদ্ধারকর্মী, পুলিশ আর সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। নেকড়েটিকে খুঁজে বের করতে পুলিশ, দমকল এবং সেনাবাহিনী মিলিয়ে ৩০০-র বেশি কর্মী তল্লাশি অভিযান চালায়। আকাশে ওড়ানো হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা। বছর দুয়েকের এই নেকড়েটির ওজন প্রায় ৩০ কেজি।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন খোলার আগে প্রতিটি খাঁচা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু সেদিন একটি নেকড়েকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানা যায়, সেটি খাঁচার নিচের মাটি খুঁড়ে পালিয়ে গেছে।
অবশেষে ৯ দিন পর শহরের একটি ইন্টারচেঞ্জের কাছ থেকে চেতনানাশক ডার্ট ব্যবহার করে তাকে ধরা হয়। নেকড়েটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাকে নিরাপদেই ও-ওয়ার্ল্ড চিড়িয়াখানায় ফিরিয়ে নিয়ে নেয়া হয়েছে।