দেশে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের নতুন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম কখনো কমছে আবার কখনো স্থিতিশীল রাখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মার্চ ২০২৬ মাসে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ জ্বালানি তেলের বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে দেশে ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, কেরোসিন প্রতি লিটার ১১২ টাকা, পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা, অকটেন প্রতি লিটার ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হতে পারে।
আরো পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কি এবার বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে এবং ডলারের মূল্য স্থিতিশীল থাকে, তাহলে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম আরও কমতে পারে। তবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা থাকলে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হতে পারে। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমানো হলেও বর্তমানে তা স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী আবারও দাম কমতে বা বাড়তে পারে। তাই দেশের অর্থনীতি ও বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির ওপরই জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ দাম অনেকটা নির্ভর করছে।
জালানি তেল দাম বাড়ার বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেই। তাই দাম বাড়বে এই আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল মজুত করা ঠিক হবে না।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম আসে, সেসব অঞ্চলে যুদ্ধ চলায় সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং মজুত তেল সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহারের জন্য রেশনিং চালু করা হয়েছে। আমাদের কাছে জ্বালানি তেলের মজুত আছে। কিন্তু যুদ্ধ কতদিন চলবে তা আমরা জানি না। তাই সব একসঙ্গে খরচ না করে রেশনিং করে ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় চলা সম্ভব হবে।
আরো পড়ুন: লাইভে দেখুন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সর্বশেষ খবর
এদিকে, ঈদুল ফিতরের আগে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের অজুহাতে যেন কেউ ঈদযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে বা পরিবহন ভাড়া বাড়াতে না পারে—সে বিষয়েও সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত ও নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে বাস, ট্রেন ও নৌযানসহ সব ধরনের পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার সুযোগও কাউকে দেওয়া হবে না। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রাখবে।