মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থান। এবার যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা করে ইরানের দিকে ঝুঁকছে পাকিস্তান।
হরমুজ প্রণালীর অবরোধ ঘিরে যখন বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখন ইরানের জন্য নতুন আশার দ্বার খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটি তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের জন্য একটি বিকল্প বাণিজ্য পথ উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এতে ইরানের সামুদ্রিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে করাচি বন্দরে ইরানগামী ৩ হাজারেরও বেশি কন্টেইনার আটকে আছে।
তবে সমুদ্রবন্দরে কঠোর মার্কিন অবরোধের মুখে থাকা ইরানের জন্য নিজেদের স্থল বাণিজ্য পথ খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটি ইরানগামী পণ্যের জন্য ৬টি স্থল রুট আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দিয়েছে।
এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে পাকিস্তানের ওপর দিয়ে ইরানের পণ্য পরিবহন বা ট্রানজিট সুবিধা পাওয়া যাবে। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ইরানের অর্থনীতির জন্য এই পদক্ষেপকে এক বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। করাচি বন্দরে আটকে থাকা হাজার হাজার কন্টেইনার সরাতেই মূলত এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এই রুটগুলো বেলুচিস্তানের তুরবত, পাঞ্জগুর, খুজদার, কোয়েটা ও দালবান্দিনের মধ্য দিয়ে গেছে। সবচেয়ে ছোট রুটটি হলো গোয়াদর-গাবদ করিডোর। এই পথে ইরানের সীমান্তে পৌঁছাতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাগবে। করাচি থেকে ইরান সীমান্তে পৌঁছাতে সাধারণত ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা লাগে। কর্মকর্তাদের মতে, গোয়াদর-গাবদ রুটে পরিবহন খরচ করাচি থেকে তুলনায় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ কমে আসবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের পরই এই ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। এমন সময় পাকিস্তান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যখন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই মাসের যুদ্ধ শেষ করতে ইসলামাবাদ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চাপে রাখার যে চেষ্টা করছে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ কি সেই চেষ্টাকে দুর্বল করে দেবে। এছাড়া যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনাতেই বা এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ। পাকিস্তান তেহরানকে এই সুবিধা দেয়ায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কে নতুন কোনো টানাপোড়েন তৈরি হয় কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।