দুই পরিবারের সম্মতিতে খুব শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল লিমন ও বৃষ্টির। দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, একসাথে ভবিষ্যতের অসংখ্য স্বপ্ন—সব মিলিয়ে তাদের গল্প ছিল যেন এক সুন্দর রূপকথা। কিন্তু সেই রূপকথার শেষটা হলো অবিশ্বাস্যভাবে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নই যেনো শেষ করে দিলো দুটি প্রাণ।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডির শিক্ষার্থী। ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন লিমন। অন্যদিকে নাহিদা পিএইচডি করছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে।
বাবা-মা ও ভাইয়ের সাথে ঢাকা থাকতো লিমন। সেখানে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্র। লিমনের ভাই জানান, তার স্বপ্ন ছিল পিএইচডি ডিগ্রি শেষ করেই দেশে ফিরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করবেন।
নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন দুজনকে সর্বশেষ ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল। লিমন ও বৃষ্টির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তাদের এক বন্ধু বিষয়টি জানালে এ বিষয়ে থানায় ডায়েরি হয়। প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর ফ্লোরিডার ট্যাম্পা এলাকার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন পুলিশ।
এই ঘটনায় জামিল লিমনের রুমমেট, ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘারবেইহকে ক্যাম্পাসের কাছে একটি অ্যাপার্টমেন্টে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, পারিবারিক সহিংসতা, অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, মৃত্যুর খবর না দেয়া, প্রমাণ নষ্ট করা, জোর করে আটকে রাখা এবং হামলা চালানো। তাকে আটকের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কলিন ব্রিজের কাছে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এরপর জামিল লিমনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করে পুলিশ এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ডের চেয়ে বরং হুট করে ঘটে যাওয়া কোনো ঝগড়া বা উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। লিমনের রুমমেটদের অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া বিপুল পরিমাণ রক্তের দাগ এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা থেকে বোঝা যাচ্ছে, অপরাধটি কোনো দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনার অংশ ছিল না।
তবে রহস্যের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ। হিশামের অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া আলামত ইঙ্গিত দেয় যে, নাহিদাকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার দেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।