মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আবারও বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। অঞ্চলজুড়ে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের মার্কিন ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সোমবার সকাল থেকে ইরানি উপকূলে সব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার লেনদেনের শুরুতেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। পরবর্তীতে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা বিভিন্ন সময়ে ১১৯ ডলারও অতিক্রম করে।
যদিও পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এক সমঝোতা বৈঠকের সময় কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছিল। এ সময় তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেল প্রতি ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছিল। তবে সেই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে দেশটি মোটা অঙ্কের টোল আদায় করছে। একই সঙ্গে মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে দেশটি, যা আগের সময়ের তুলনায় বেশি।
এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ও চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তেলের এমন উচ্চমূল্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পশ্চিমের অনেক দেশ এই পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান করলেও স্বল্প সময়ে তেলের বাজারের এই অস্থিরতা কমানো সম্ভব নয়।
তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্ব শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক বাজারেই সূচক নিম্নমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বিশেষ করে আমদানি নির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বাড়া এবং মূল্যস্ফীতি আরও ত্বরান্বিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।