ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন কূটনৈতিক বার্তা দিলো পোল্যান্ড। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ঘাঁটি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাইলেও তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটি।
সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হোয়াইট হাউসের জন্য একটি বড় ধাক্কা। স্পেনের মতো পোল্যান্ডের এই উপেক্ষা ন্যাটোর কৌশলগত পরিকল্পনায় সদস্য দেশগুলোর অবস্থান ট্রাম্পের জন্য কতটা হতাশার তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ইরান যুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডের কাছে সাহায্য চেয়েছে। তাদের প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে নিতে চেয়েছে। তবে যথারীতি হতাশ হতে হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে।
পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ জানিয়েছেন, ইরানের হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে পোল্যান্ড তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাবে না। পোলিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, পোল্যান্ডের নিজস্ব আকাশসীমা এবং ন্যাটোর পূর্ব সীমান্ত রক্ষা করাই এই প্যাট্রিয়ট ব্যাটারিগুলোর মূল কাজ। এক্ষেত্রে নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
ইরান ও ইসরায়েলের ওপর শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পর থেকেই ওই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যাপক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং সাড়ে তিনশোর বেশি আহত হয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ ‘অফুরন্ত’ বলে দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আমেরিকার বেশ কিছু রাডার এবং ই-থ্রি সেন্ট্রি অ্যাডভান্সড ওয়ার্নিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকার করায় ট্রাম্প ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের সমালোচনা করেছেন। তিনি এই সামরিক জোটকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেন।
ইরান যুদ্ধের অন্যতম সোচ্চার বিরোধী দেশ স্পেন, যারা ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা বা যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকার করেছে। তবে পোল্যান্ডের এ সিদ্ধান্ত অন্যান্য দেশগুলোকেও তাদের নিজস্ব কৌশল পুনর্বিবেচনার দিকে প্ররোচিত করবে।