ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ‘‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’’ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
মঙ্গলবার ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি এই বক্তব্য দেন, যা দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “ইরানের অখণ্ডতা রক্ষায় আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গর্বিত, বিজয়ী ও অবিচল। পূর্ণাঙ্গ বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
জেনারেল আলিয়াবাদি ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো আলোচনায় কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার বার্তা দিতেই তিনি এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।
আরো পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কি এবার বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে?
এদিকে, যুদ্ধের ২৫তম দিনেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে, ইসরায়েলও ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন স্থাপনা ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম বলছে, মঙ্গলবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের দুটি গ্যাস স্থাপনা এবং একটি পাইপলাইন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি থেকে ৫ দিনের বিরতি ঘোষণা করেছিলেন।
সোমবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা খুব ভালোভাবেই চলছে। তবে ইরানি সংবাদমাধ্যম বলছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে বর্তমানে কোনও আলোচনা চলছে না। ট্রাম্পের দাবি অস্বীকার করেছেন ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও।
সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি আল-জাজিরাকে বলেছেন, যদি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ চায়, তাহলে ইসলামাবাদ সব সময়ই আলোচনার আয়োজন করতে ইচ্ছুক।
ইতোমধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে দুই দেশের আলোচকরা বৈঠকে বসতে পারেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।