তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাস পূর্ণ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশের সাংঘর্ষিক সম্পর্ক পরিবর্তনে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তা আন্তর্জাতিক স্তরে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং এই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোটে গরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠন করে বিএনপি।
১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রথম যে বিশ্বনেতারা হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান, তাদের তালিকায় ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এমনকি সেদিন বিকেলে তিনি টেলিফোনেও তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন।
দেড় বছরের বিরতি শেষে ভারত যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক করতে চাইছে, ১৩ ফেব্রুয়ারিতেই সেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু বরফ গলার মধ্য দিয়ে নতুন করে যে সম্পর্কের যাত্রা শুরু, তা কি সত্যিই শেষমেশ প্রত্যাশিত পথে এগোবে?
ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামীতে কোন পথে যেতে পারে, তা কয়েকটি নির্দিষ্ট সূচক দিয়ে পরিমাপ করা যেতে পারে। যেমন- ভারতীয় কূটনীতিকরা সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, ধীরে ধীরে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে এবং পর্যটন ভিসাও চালু করা হবে।
এমনটা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী যদি প্রথম বিদেশ সফরে দিল্লিতে যান, তাহলে বোঝা যাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তার সরকার আগ্রহী। এছাড়া তিনি যদি ভারত সফরে না গিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানান, সেটাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ মনে করা হবে।
এছাড়াও ২০২৬ সালের জুনে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। ভারত এতে সম্মত হলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকবে। ওদিকে গত দেড় বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে বাস-ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক হলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে বড় পরিবর্তন আসবে।
অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। চুক্তি নবায়নের জন্য যদি দ্রুত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়, তাহলে বোঝা যাবে দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়নে আন্তরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আর এসব পদক্ষেপই আভাস দেবে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন পথে এগোচ্ছে।