না ফেরার দেশে চলে গেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। ১২ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলে ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লিভারজনিত সমস্যার কারণে ১১ এপ্রিল বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। জানাজার বিষয়টি পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ: জীবন, ক্যারিয়ার ও অবদান
বাংলাদেশের আইন ও বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম হলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। তিনি একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী, রাজনীতিবিদ এবং দেশের সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে সুপরিচিত। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন।
শিক্ষা ও পেশাগত জীবন: ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাজ্য থেকে বার-এট-ল সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি দেশে ফিরে আইন পেশায় যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে একজন দক্ষ ও প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার আইনি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তাকে দেশের শীর্ষ আইনজীবীদের কাতারে নিয়ে আসে। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অংশগ্রহণ করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবন: তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন। দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তিনি জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে তিনি বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
আইনমন্ত্রী হিসেবে ভূমিকা (২০০৯–২০১৪): আইনমন্ত্রী হিসেবে তার সময়কাল ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। এই সময়ে তিনি— আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন। আইন সংস্কার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে দেশের বিচারব্যবস্থায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়।
অবদান ও গুরুত্ব: ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ দেশের আইন খাতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিচারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে ভূমিকা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে আইনগত দিকনির্দেশনা প্রদান, তিনি একজন অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতা হিসেবে পরিচিত, যিনি আইন ও রাজনীতির সংযোগস্থলে কাজ করেছেন।
সমালোচনা ও আলোচনা: যেকোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতোই তার সময়কাল নিয়েও বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ কিছু ইস্যুতে ভিন্নমত দেখা গেছে। তবে এসবের মধ্যেও তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও আইনগত দক্ষতা স্বীকৃত।
সব মিলিয়ে, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বাংলাদেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। একজন আইনজীবী থেকে শুরু করে দেশের আইনমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত তার যাত্রা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ। তার কর্মজীবন প্রমাণ করে—আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি প্রতিশ্রুতি থাকলে একজন ব্যক্তি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের অংশ হতে পারেন।