মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। রোববার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি এ উদ্বেগ জানান।
বিবৃতিতে তিনি ইরানে সামরিক হামলা এবং পরবর্তী সময়ে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার ভাষায়, এসব ঘটনা সংঘাতের বিপজ্জনক বিস্তারকে ইঙ্গিত করে, যা সমগ্র অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তবে বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
জামায়াত আমির বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার প্রতি তারা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানান। তিনি ইরানের পাল্টা হামলাকেও অকার্যকর ও পরিস্থিতি অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন এবং এ ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান।
আরো পড়ুন: যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। এতে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে এবং চলমান বিরোধের ন্যায্য ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একইসঙ্গে, উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাকেও আমরা অকার্যকর ও পরিস্থিতি অবনতিকারী বলে মনে করি। এ ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগই কেবল বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা আরও গভীর করবে।”
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামোর তোয়াক্কা না করে জাতীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে হত্যার যে প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, তা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালা দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আরো পড়ুন: খামেনির জীবন, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব যেমন ছিল
মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ এবং বিশ্ববাসী আরেকটি বিধ্বংসী যুদ্ধ কামনা করে না। তারা চায় শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে বৃহত্তর অঞ্চল আরও বিস্তৃত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাই, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার জোর দাবি জানাই- কারণ টেকসই সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ সেটিই।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বা সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা আবশ্যক।
এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় ঐক্য, প্রজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।