বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে নতুন বছরের প্রথম প্রহরে সবাই কামনা করেন বিশ্বশান্তি। সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের ঐতিহ্যকে ধারণ করে রমনা বটমূলের ঐতিহ্যবাহী প্রভাতী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিল ছায়ানট। ষাটের দশকে রমনার বটমূলে যে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিল ছায়ানট, এখন তা বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ।
যুদ্ধে বিপর্যস্ত, আতঙ্কিত পৃথিবীতে সংস্কৃতির সকল প্রকাশ যেন নির্বিঘ্ন হয় এ প্রত্যাশার কথা জানিয়ে এবার নতুন বছরকে বরণ করেছে ছায়ানট। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্ভীক সমাজের দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল—‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম প্রভাতে মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে রমনার বটমূল আবারও জেগে উঠে সুরের নবজাগরণে। ভোরের আলো ফোটার আগে শিশিরভেজা বাতাসে সম্মেলক কণ্ঠে ’জাগো আলোক-লগনে’ গানের পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় এবারের আয়োজন।
এরপর একে একে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁইর গান, লোকগান, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ ও জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান।
সকালের স্নিগ্ধ প্রকৃতি এবং মানব ও দেশপ্রেমের গানের পাশাপাশি পরিবেশনায় ছিল লোক জনজীবনের সুর। এছাড়া ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ ও প্রয়াত বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা গীতিকার সুরকার ও চিত্রশিল্পী মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের গান পরিবেশন করা হয়।
বাঙালি সমাজকে বিগত বছরের সব ‘প্রতিকূলতা, আবর্জনা’ দূর করে নতুন বছরে ‘আরো মানবমুখী’ হওয়ার প্রত্যয় ছিল এ আয়োজনে। সব জীণতা দূর করে শুভ বোধ নিয়ে বাঙালির চিরায়ত সাজে বর্ষবরণের এ আয়োজনে হাজির সব বয়সের মানুষ।
বাঙালি যেন শঙ্কামুক্ত জীবন যাপন করতে পারে-এমন প্রত্যাশা সকলের। একক গান, সম্মিলিত গান, আবৃতি আর কথনে প্রায় ২০০ শিল্পীর অংশগ্রহণে সাজানো হয় এবারের বটমুল। বরাবরের মতো জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ঐতিহ্যবাহী ছায়ানটের এ আয়োজন।