আন্তর্জাতিক পপ তারকা আরিয়ানা গ্র্যান্ডে তার সংগীত ক্যারিয়ারে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। তার আসন্ন অ্যালবাম “Petal” থেকে প্রকাশিত প্রথম গান হ্যাট দ্যাট আই মেইড ইউ লাভ মি (Hate That I Made You Love Me)-এর অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। গানটির মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু একজন গায়িকা নন—বরং একজন ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলারও।
সাধারণ মিউজিক ভিডিওর বাইরে গিয়ে আরিয়ানা এইবার বেছে নিয়েছেন একটি সিনেমাটিক স্টোরিটেলিং ফরম্যাট। প্রায় পাঁচ মিনিটের এই ভিডিওটি প্রকাশিত হয়েছে সোমবার (১ জুন)। ভিডিওটির মূল আকর্ষণ হলো এর অন্ধকার ও আবেগঘন গল্প, যেখানে একটি সম্পর্কের ভেতরের মানসিক জটিলতা ফুটে উঠেছে।
গল্পে দেখানো হয়েছে, একজন মানুষ তার অতীত ভুলে নতুন জীবন শুরু করতে চায়। কিন্তু সে যতই এগোতে চায়, তার অতীত তাকে ছেড়ে যায় না।
ভিডিওতে আরিয়ানা গ্র্যান্ডেকে দেখা যায় এক রহস্যময় ও ভৌতিক উপস্থিতি হিসেবে, যিনি যেন সেই পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি হয়ে ফিরে আসেন। তার চরিত্রটি মূলত একজন “ঘোস্ট”-এর মতো, যিনি একজন ব্যক্তিকে তার অতীতের ভুলের মুখোমুখি করান।
এই চরিত্রের বিপরীতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা জাস্টিন লং, যিনি এমন একজন মানুষকে উপস্থাপন করেন, যে তার অতীতের পাপ ও স্মৃতি থেকে পালাতে চায়, কিন্তু ব্যর্থ হয়।
ভিডিও যত এগোতে থাকে, ততই বাস্তবতা ও কল্পনার মধ্যে সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যায়। এক পর্যায়ে দর্শক বুঝতে পারে না কোনটা বাস্তব আর কোনটা কল্পনা। এই মনস্তাত্ত্বিক ধাঁচের গল্প ভিডিওটিকে একটি psychological thriller-এর রূপ দেয়।
আরিয়ানার উপস্থিতি এখানে কেবল একজন চরিত্র নয়, বরং একজন অনুভূতির প্রতীক—যা অপরাধবোধ, ভালোবাসা এবং মানসিক চাপের প্রতিনিধিত্ব করে।
এই গানটি শুধুমাত্র একটি একক প্রকাশনা নয়, বরং আরিয়ানার নতুন অ্যালবাম “Petal”-এর প্রথম ঝলক। এটি তার সংগীতে দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
গত কয়েক বছর তিনি অভিনয় জগতে বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন, বিশেষ করে “Wicked” ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

আরিয়ানার আগের অ্যালবাম “Eternal Sunshine” (২০২৪) ছিল ব্যাপক সফল। এটি Billboard 200 চার্টে একাধিকবার শীর্ষে উঠে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রাখে। বিশেষ করে এর ডিলাক্স সংস্করণ প্রকাশের পর এটি আবারও চার্টে শীর্ষে ফিরে আসে।
সব মিলিয়ে “Hate That I Made You Love Me” শুধুমাত্র একটি গান নয়—এটি আরিয়ানা গ্র্যান্ডের নতুন কনসেপ্ট-ভিত্তিক মিউজিক যুগের সূচনা। ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, আবেগঘন থিম এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি আধুনিক পপ মিউজিকের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী।
আসন্ন অ্যালবাম “Petal” নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে, এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, আরিয়ানা গ্র্যান্ডে একজন বিশ্ববিখ্যাত আমেরিকান গায়িকা, গীতিকার এবং অভিনেত্রী। আধুনিক পপ সংগীতে তার শক্তিশালী ভোকাল, অনন্য স্টাইল এবং হিট গানগুলোর কারণে তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
আরিয়ানা গ্র্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন ২৬ জুন ১৯৯৩ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বোকা রাটন শহরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি সংগীত ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। স্কুল জীবনে তিনি বিভিন্ন স্টেজ শো ও থিয়েটারে অংশগ্রহণ করতেন।
আরিয়ানা প্রথমে টেলিভিশনে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান। তিনি জনপ্রিয় নিকেলোডিয়ন সিরিজ “Victorious”-এ ক্যাট ভ্যালেন্টাইন চরিত্রে অভিনয় করেন, যা তাকে তরুণ দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলে। এরপর তিনি স্পিন-অফ সিরিজ “Sam & Cat”-এও অভিনয় করেন।
২০১৩ সালে আরিয়ানা তার প্রথম অ্যালবাম “Yours Truly” প্রকাশ করেন, যা বিশাল সাফল্য পায়। এরপর একের পর এক হিট অ্যালবাম প্রকাশ করেন, যেমন— My Everything (2014), Dangerous Woman (2016), Sweetener (2018), Thank U, Next (2019), Positions (2020), Eternal Sunshine (2024)। তার গানগুলোতে R&B, pop এবং soul-এর মিশ্রণ দেখা যায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরিয়ানা অভিনয় জগতে আরও সক্রিয় হয়েছেন। তিনি “Wicked” মিউজিক্যাল ফিল্ম সিরিজে Glinda চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা তাকে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও জনপ্রিয় করেছে।
আরিয়ানা গ্র্যান্ডে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রায়ই মিডিয়ার আলোচনায় থাকেন। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সম্পর্ক ও সামাজিক ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছেন, তবে মূলত তিনি সংগীত ও অভিনয়েই বেশি মনোযোগ দেন।