কেউ হয়তো মনোযোগ দিয়ে চ্যাট করছেন। আর স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একের পর এক মেসেজ। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলেন পাশের সিটে বসে কেউ তার ফোনে উঁকি দিচ্ছে।
স্মার্টফোন এখন ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশ। জনসম্মুখে এর প্রাইভেসি রক্ষাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সুযোগ পেলেই অনেকেই অন্যের ফোনে উঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য দেখেন।
সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে—এ আচরণের পেছনে কাজ করে নানা মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ। এমনকি, ফেসবুক মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের মতো ব্যক্তিগত কথোপকথনের ভিতরেও উঁকি মেরে দেখছেন অনেকে।
স্যামসাংয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, ইউরোপের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ স্বীকার করেছেন, তারা জনসম্মুখে অপরিচিত মানুষের ফোনের তথ্যের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
৫৬ শতাংশ ইউরোপীয় বলেছেন, জনসম্মুখে অপরিচিত মানুষের ফোনের স্ক্রিনে তাদের নজর পড়ে যায়, তবে তা ইচ্ছাকৃতভাবে নয়। ২৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, শুধু কৌতূহল থেকে অন্যের ফোনে উঁকি দেন। ৫৭ শতাংশ মানুষের মতে, গণপরিবহন বিশেষ করে বাস বা ট্রেনে যাতায়াতের সময় এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে।
এদিকে, ২৮ শতাংশ মানুষ অন্যের ফোনে ব্যক্তিগত কিছু দেখলে তা উপেক্ষা করেন এবং ২৭ শতাংশ মানুষে মতে, এমন কিছু চোখে পড়লে তারা সঙ্গে সঙ্গেই চোখ সরিয়ে নেন। সাত শতাংশ মানুষ বলছেন, তারা সুযোগ বুঝে বেশ কৌশলে অন্যের ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকা চালিয়ে যান।
স্যামসাংয়ের মতামত, অধিকাংশ মানুষই মেনে নিয়েছেন, জনসম্মুখে আসলে কোনো প্রাইভেসি নেই। কেবল ২১ শতাংশ মানুষ মনে করেন জনসম্মুখে ফোনের ব্যবহার ব্যক্তিগত বিষয়।
এদিকে, যখন কেউ বুঝতে পারেন যে অন্য কেউ তার ফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন তখন ৪২ শতাংশ মানুষ ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেন। কেবল ১০ শতাংশ মানুষ ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হয়ে প্রতিবাদ করেন।
এ সমস্যা সমাধানে গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা স্মার্টফোনে কোম্পানিটি নিয়ে এসেছে বিশেষ এক ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’ ফিচার, যা ফোনের ভেতরের কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি নয়, বরং বাইরের ব্যক্তিগত প্রাইভেসি রক্ষার জন্য তৈরি হয়েছে। কারিগরি দিক থেকে এ ফিচারটি বেশ কার্যকর।
প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, ততই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গুরুত্ব বাড়ছে—আর সেই সীমারেখা মানা এখন সময়ের দাবি।