দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। ফলে এ নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এপ্রিল মাসেও বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি কার্গো—একটি ৩০ মার্চ এবং অন্যটি ৩ এপ্রিল—বাংলাদেশে পৌঁছাবে। এই দুই চালানে মোট প্রায় ৫৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আসবে।
এ ছাড়া ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি যুক্ত হবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বিএসপি থেকে দুটি এবং ইউনিপ্যাক থেকে একটি কার্গো আসবে, যা মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়াবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকায় জ্বালানি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
সেচ মৌসুমে কৃষিতে জ্বালানি সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে থাকা তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে এ বিষয়ে সমস্যা পাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
জ্বালানি সাশ্রয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে সরকার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে বাসা থেকে কাজের ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি এবং জোড়-বিজোড় নম্বরের ভিত্তিতে যানবাহন চলাচলের মতো উদ্যোগ। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।