আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তিতে হাইপারসনিক মিসাইলকে সবচেয়ে বিপজ্জনক ও কৌশলগত অস্ত্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাধারণ ব্যালিস্টিক বা ক্রুজ মিসাইলের সঙ্গে এর মৌলিক পার্থক্য তৈরি করেছে গতি, গতিপথ এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার সক্ষমতা।
হাইপারসনিক মিসাইলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত উচ্চ গতি। শব্দের গতির পাঁচ গুণ বা তারও বেশি (ম্যাক-৫+) গতিতে ছুটে চলার কারণে এই মিসাইল শনাক্ত ও প্রতিহত করা প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত কঠিন।
সাধারণ মিসাইল যেখানে নির্দিষ্ট পথে চলে, সেখানে হাইপারসনিক মিসাইল মাঝ আকাশেই দিক পরিবর্তন করতে পারে। এই অনিশ্চিত গতিপথ শত্রুপক্ষের রাডার ও প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে।
আরো পড়ুন: যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
আরেকটি বড় পার্থক্য হলো এর নিম্ন উচ্চতায় উড্ডয়ন ক্ষমতা। হাইপারসনিক মিসাইল বায়ুমণ্ডলের তুলনামূলক নিচু স্তর দিয়ে চলাচল করতে পারে, ফলে রাডারের নজর এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় নেমে আসে কয়েক সেকেন্ডে, যা সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও জটিল করে তোলে।
সাম্প্রতিক ইরান–ইসরাইল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হাইপারসনিক মিসাইলের ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরো পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আতঙ্ক: যেভাবে কাজ করে ইরানের শাহেদ ড্রোন
ইরান দাবি করেছে, তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অর্জন করেছে যা আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শনই নয়, বরং ইসরাইল ও তার মিত্রদের জন্য কৌশলগত বার্তাও দিতে চায়।
বিশ্ব শক্তিগুলো—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন—ইতিমধ্যেই হাইপারসনিক প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখছে। ইরান যুদ্ধে এই অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার দেখিয়ে দিচ্ছে, আধুনিক সংঘাত এখন শুধু সৈন্য বা ট্যাংকের নয়, বরং গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া প্রযুক্তির লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।