মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলো একক ও স্পষ্ট অবস্থান নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও তেহরানের প্রতি কঠোর বার্তা পর্যবেক্ষণ করছিল ইউরোপ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগের হুঁশিয়ারি দিলেও হামলা শুরুর পর ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ছিল বিভক্ত ও অসংগঠিত।
ইউরোপের প্রধান উদ্বেগ এখন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি এই সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি ও খাদ্যমূল্যে পড়ায় ইউরোপের অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর যেমন গ্যাসের দাম বেড়েছিল, সেই আশঙ্কা আবার ফিরে এসেছে।
ইউরোপের তথাকথিত ‘বিগ থ্রি’—ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য—গত সপ্তাহে এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে সতর্ক করেছিল। যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলেও ট্রাম্প অভিযোগ করেন, লন্ডন যথেষ্ট সক্রিয় নয়। অন্যদিকে ফ্রান্স মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, আর জার্মানি আত্মরক্ষার কথা বললেও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস-এর বক্তব্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা অনুপস্থিত ছিল। মূলত ইউরোপ চায় না ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন ইস্যু থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিক।
তবে ব্যতিক্রমী কণ্ঠ শোনা গেছে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ-এর কাছ থেকে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সামরিক হস্তক্ষেপ সমর্থনযোগ্য নয়। স্পেন তাদের ঘাঁটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন ইরানে ‘বিশ্বাসযোগ্য পরিবর্তনের’ আহ্বান জানিয়ে তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নেন, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভিন্নমতকে আরও স্পষ্ট করে।
সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকটের চাপের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে ইরান প্রশ্নে ইউরোপ আজ গভীর ঐক্যসংকটে পড়েছে।