গাইবান্ধার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধানের কুঁড়া থেকে তৈরি করা হচ্ছে বিশুদ্ধ খাবার তেল। ২০১৬ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে নাজির হোসেন প্রধান গড়ে তোলেন ‘প্রধান অয়েল মিলস লি.’নামের এই প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাইস ব্র্যান তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
এক সময় শুধু অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হলেও, বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পরিশোধিত খাবার তেল উৎপাদিত হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানে। দেশের বাজার পেরিয়ে এই তেল এখন রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।
মূলত ধান থেকে তুষ সরিয়ে ফেলার পর চালের ওপর যে পাতলা লালচে আবরণ থাকে, সেটাকেই বলা হয় রাইস ব্র্যান। আর এর থেকেই বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে নিষ্কাশন করা হয় অপরিশোধিত তেল।
এরপর অন্য একটি ইউনিটের যন্ত্রে তা পরিশোধন করে তৈরি করা হয় বিশুদ্ধ খাবার তেল। রাইস ব্র্যানে ২৫ ভাগের মতো তেল থাকে যা হৃদপিণ্ডের জন্য খুবই উপযোগী। এটি কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে।
কয়েকটি ধাপে আলাদা আলাদা ইউনিটের প্রশিক্ষিত কর্মীরা আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে তেল উৎপাদন করে তা বোতলজাত করেন। এখানে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার শ্রমিকের কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত হচ্ছে রাইস ব্র্যান তেল। প্রতিমাসে উৎপাদিত হয় প্রায় ১১ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল। এদের মধ্যে ‘প্রধান অয়েল মিলস’ নিয়মিত পরিশোধিত তেল উৎপাদন করে থাকে।
দেশের বাজারে রাইস ব্র্যান তেলের চাহিদা এখনো বেশ কম। তাই নাজির হোসেন প্রধান এই তেলের স্বাস্থ্যসম্মত কার্যকর প্রচারণার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে সরবরাহের সুযোগ দাবি করেন।