যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ১৮ বছর বয়সী হেনরি নওয়াককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার দায়ে ২৩ বছর বয়সী ভিক্রম ডিগওয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। খবর: দ্য গার্ডিয়ান
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অন্তত ২০ বছর কারাভোগের আগে তিনি প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
ঘটনাটি ঘটে যখন হেনরি নওয়াক রাতের বেলা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। পথে তার সঙ্গে ভিক্রম ডিগওয়ার মুখোমুখি দেখা হয়।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ডিগওয়া একটি বড় শিখ ছুরি বহন করছিলেন, যা দেখে হেনরি তাকে প্রশ্ন করেছিলেন। তবে বিচারক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে হেনরি কোনো বর্ণবাদী মন্তব্য করেননি।
হামলার পর ডিগওয়া পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দেন যে হেনরি তাকে বর্ণবাদীভাবে অপমান করেছিলেন এবং তার পাগড়ি খুলে ফেলেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ প্রথমে হেনরিকেই গ্রেপ্তার করে এবং হাতকড়া পরায়।
পরে তার গুরুতর আঘাতের বিষয়টি প্রকাশ পেলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে আসে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় এবং পরে হ্যাম্পশায়ার পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়।
আদালতে বিচারক বলেন, ভিক্রম ডিগওয়ার কর্মকাণ্ড শুধু একজন নিরীহ তরুণের জীবন কেড়ে নেয়নি, বরং তার পরিবার, শিখ সম্প্রদায় এবং ধর্মের জন্যও লজ্জার কারণ হয়েছে।
বিচারক মনে করেন, শিখ ধর্মে কিরপান বিশ্বাস ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে বহন করা হয়, কখনোই আক্রমণের অস্ত্র হিসেবে নয়।
প্রসিকিউশন আদালতকে জানায়, ডিগওয়া অস্ত্র ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলেন এবং অস্ত্রের প্রতি তার বিশেষ আসক্তি ছিল।
তদন্তে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত অস্ত্র সংক্রান্ত তথ্য খুঁজতেন এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহারে আগ্রহী ছিলেন। হামলার পর আহত হেনরির ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়টিও আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
হেনরির পরিবার আদালতে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তার বাবা মার্ক নওয়াক বলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না যে তার ছেলেকে এমন নির্মম পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, ছুরি-সংক্রান্ত অপরাধকে জাতীয় জরুরি সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করতে।
হেনরির বোন অলিভিয়া বলেন, তার ভাই শুধু পরিবারের সদস্যই ছিলেন না, তিনি ছিলেন তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।
অন্যদিকে মা লুসি রস স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে হেনরির মুখে যে আনন্দের ঝলক দেখেছিলেন, সেই স্মৃতি তিনি কখনো ভুলতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের আইনে ধর্মীয়, আনুষ্ঠানিক, ক্রীড়া বা ঐতিহাসিক কারণে কিরপান বহন করা বৈধ। তবে এই ঘটনা দেখিয়েছে, সেই অধিকার অপব্যবহার করা হলে তার ভয়াবহ পরিণতি কতটা গভীর হতে পারে।