অবশেষে অপেক্ষার অবসান। চোট, অনিশ্চয়তা আর দীর্ঘ পুনর্বাসনের কঠিন সময় পেরিয়ে আবারো ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরলেন নেইমার। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত দলে নেইমারের নাম আসতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পুরো ব্রাজিল।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার গভীর রাতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন। রিও দে জেনেইরোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুরু থেকেই ছিল তুমুল আগ্রহ। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল একটাই নেইমার থাকছেন কি না।
গোলরক্ষক, রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণার পর আক্রমণভাগে প্রথম চমক হিসেবে আসে তরুণ এন্দ্রিকের নাম। এরপর একে একে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, ইগোর থিয়াগো, লুইস এইহিকে ও মাথেউস কুইয়ার নাম ঘোষণা করেন আনচেলত্তি। কিন্তু পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই যেন অপেক্ষা ছিল একটি নামের জন্য।
অবশেষে আনচেলত্তি যখন নেইমারের নাম উচ্চারণ করেন, তখন দর্শকদের উল্লাসে অনুষ্ঠানস্থল কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের জন্য থেমে যেতে হয় ব্রাজিল কোচকেও। শুধু স্টেডিয়ামেই নয়, সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া।
টিভি পর্দার সামনে কিংবা বড় পর্দায় খেলা দেখা সমর্থকেরা নেইমারের নাম শুনেই আনন্দে চিৎকার করে ওঠেন। ব্রাজিলজুড়ে যেন উৎসবের আবহ তৈরি হয়।দল ঘোষণার পর আনচেলত্তি ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন তিনি নেইমারকে দলে নিয়েছেন। ব্রাজিল কোচের মতে, ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতাই নেইমারের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আনচেলত্তি বলেন, ‘সে তার ফিটনেস অনেক উন্নত করেছে। বিশ্বকাপে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হবে। প্রথম ম্যাচের আগে পর্যন্ত সে আরো উন্নতি করতে পারবে। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় তার অভিজ্ঞতা আছে। দলের সবাই তাকে ভালোবাসে। সে দলে ইতিবাচক আবহ তৈরি করতে পারবে।’
২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর চোটে পড়ে জাতীয় দল থেকে ছিটকে যান নেইমার। এরপর একের পর এক চোটে ভুগে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালে সময়টা সুখকর হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে যান তিনি। লক্ষ্য ছিল একটাই আবার ব্রাজিল দলে ফেরা।
সান্তোসে ফেরার পরও সহজ হয়নি পথচলা। মাঝেমধ্যেই চোটে ভুগেছেন তিনি। তবে পুনর্বাসন আর কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে গেছেন নিয়মিত। সেই লড়াইয়ের ফল মিলল অবশেষে। আড়াই বছরের বেশি সময় পর আবার জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরলেন ১২৮ ম্যাচ খেলা এই তারকা।
দলের আক্রমণভাগে নেইমারের সঙ্গে থাকছেন রাফিনিয়া, ভিনিসিউস জুনিয়র, গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও এন্দ্রিক। মাঝমাঠে আছেন কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেস ও লুকাস পাকেতা। রক্ষণভাগে দায়িত্ব সামলাবেন মার্কিনিয়োস, ব্রেমার ও গাব্রিয়েল মাগালিয়াইসরা। গোলবারে থাকছেন আলিসন ও এদেরসন। আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও হাইতি।