অন্ধকার মহাকাশে ছোট্ট নীল পৃথিবী দূরে ঝলমল করছে, সামনে চাঁদের পাশে ভাসছে একটি স্পেসক্রাফট। আর ওরিয়ন মহাকাশযান চাঁদের দিকে যাওয়ার পথে পৃথিবী থেকে অনেক অনেক দূরে সরে যাচ্ছে।
এবার পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় মানুষের ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস–২ চন্দ্রাভিযানে অংশ নেয়া চার নভোচারী। তাদের বহনকারী যানটি যখন চাঁদের পেছন দিকে যায়, তখন পৃথিবীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে।
সোমবার গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে যখন চাঁদের পেছন দিকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় পৌঁছান, তখন পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্ব ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল। এর আগে পৃথিবী থেকে এত দূরে কোনো মানুষ ভ্রমণ করেননি। এর মধ্য দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে আর্টেমিস–২ অভিযান।
মিশন শুরুর চার দিন ছয় ঘণ্টা দুই মিনিট পর এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ বলয়ে প্রবেশ করে মহাকাশযানটি। আর্টেমিস মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো পিঠে প্রবেশ করে, তখন বিশাল এই উপগ্রহটিই বাধা হয়ে দাঁড়ায় পৃথিবী ও মহাকাশযানের মাঝখানে। ফলে রেডিও বা লেজার—কোনো মাধ্যমেই আর সিগন্যাল আদান-প্রদান করা সম্ভব হয় না। গভীর মহাকাশের নিস্তব্ধতায় টানা ৪০ মিনিট সম্পূর্ণ একা থাকেন চার নভোচারী।
এই যাত্রায় নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করেন। এরপর ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি অনুসরণ করে মহাকাশযানটি প্রায় চার দিনে পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
আর্টেমিস পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এই সময়টিতে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। যখন চাঁদের আড়ালে পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে তখন সবাই মিলে তাদের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। যাতে তারা পুনরায় সফলভাবে পৃথিবীর সাথে যুক্ত হতে পারেন।
৫০ বছর আগে অ্যাপোলো মিশনের নভোচারীরাও একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে যখন নীল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন চাঁদের মাটিতে পা রাখছিলেন, তখন মাইকেল কলিন্স একাকী কমান্ড মডিউল নিয়ে চাঁদের কক্ষপথে ঘুরছিলেন। চাঁদের উল্টো পিঠে থাকাকালীন কলিন্সও ৪৮ মিনিট পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন।
আর্টেমিস মিশনের এই ৪০ মিনিট কেবল একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে মানুষের সাহস ও একাকীত্বের এক নতুন অধ্যায়।
আরো পড়ুন: ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম-মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের সঠিক ইমেজ সাইজ গাইড