বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসন ব্যবস্থা একেবারে আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে থাকে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দায়িত্ব পালন করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
১৯৩৯ সালে পবিত্র শহর মাশহাদ–এ জন্ম নেওয়া খামেনির শৈশব কেটেছে কুরআনের আয়াত আর ধর্মীয় শিক্ষার মাঝে। কৈশোরেই তিনি বুঝে যান—ধর্ম কেবল বিশ্বাস নয়, এটি শক্তিও।
ইরানের শিয়া শিক্ষাকেন্দ্র নাজাফ ও কুমে পড়াশোনার সময় তার চিন্তায় জন্ম নেয় প্রতিরোধের দর্শন। শাহ শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বারবার গ্রেপ্তার ও নির্বাসন তার জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে ওঠে।
১৯৭৯ সাল। ইসলামী বিপ্লবে পতন ঘটে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রের। বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। সেই বিপ্লব খামেনির জন্য খুলে দেয় ক্ষমতার দরজা। তিনি হয়ে ওঠেন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ মুখ, এরপর ১৯৮১ সালে—এক হাত পঙ্গু হয়েও—নির্বাচিত হন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ১৯৮৯ সালে। খোমেনির মৃত্যুর পর সংবিধান সংশোধন করে খামেনিকে বসানো হয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার আসনে। তখন থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন রাষ্ট্রের ছায়া-সম্রাট—সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক, বিচারব্যবস্থার অভিভাবক, এবং পরমাণু নীতির চূড়ান্ত অনুমোদনদাতা। তার শক্তির প্রধান ভরকেন্দ্র ছিল ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস ও বাসিজ।
তার শাসন মানেই প্রতিরোধ, সন্দেহ আর কঠোরতা। অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন থেকে শুরু করে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে তিনি গড়ে তোলেন ‘প্রতিরোধ অক্ষ’। লেবানন, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন—সবখানেই ছিল তার ছায়া।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যু ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।